থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ৮ এবং আহত ১৫ জনের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পেরেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলায় অবস্থিত ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ব্যাংককের উপকণ্ঠে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিজ বাড়িতেই হামলার শুরু করে । সেখানে প্রথমে সে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ননথাবুরি এলাকার ডেবসিরিন স্কুলে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। পরে সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থীরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, তিনি নিজের চোখে ওই শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষককে গুলি করতে দেখেছেন। হামলার পরপরই স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে জরুরি সেবা কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও শুরু করা হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, হামলাকারী একটি হ্যান্ডগান ব্যবহার করেছিল। ওই শিক্ষার্থী কিভাবে অস্ত্রটি পেয়েছিল, তা তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাস্থলে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন পটকা ফাটছে। পরে একের পর এক গুলির শব্দ শুনে বুঝতে পারেন, স্কুলে গুলি হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বেগুনি রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছিল। তার হাতে একটি কালো ক্রস-বডি ব্যাগ ছিল এবং ঘটনাস্থলে মাটিতে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর ননথাবুরির দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলের আশপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আতঙ্কিত অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে তাদের সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যান।
ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এ ঘটনাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত নয়।’
থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বেশি। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি সাতজন মানুষের বিপরীতে একটি বন্দুক রয়েছে।
বারবার গুলির ঘটনা ঘটলেও বন্দুক আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি এসব হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি। এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে গুলির ঘটনায় স্কুলের অধ্যক্ষ নিহত হন এবং দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে পুলিশ এক কিশোর বন্দুকধারীকে গুলি করে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী কিশোরটি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরি দিয়ে আহত করে তার ৯ মিলিমিটার পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে সেই অস্ত্র দিয়েই হামলা চালায়।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই কিশোরকে এর আগে মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও, ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি ডে-কেয়ার বা নার্সারিতে এক সাবেক পুলিশ সদস্য বন্দুক ও ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে ২৪ শিশু ও ১২ প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা।












